শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

হেফাজত-আওয়ামী লীগের সন্ধি ও দ্বন্দ্ব

 

অনেকেই বলে থা কেন যে, রাজনীতি হচ্ছে কৌশলের খেলা। এখানে স্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু নেই। যদিও বিষয়টি সরল নয়। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো পরিচালিত হয় কিছু মৌলিক নীতি-আদর্শ দ্বারা। সেই নীতি-আদর্শ থেকে যদি কোনো দল সরে যায়, কিংবা নীতির সঙ্গে মিল নেই এমন কোনো দলের সঙ্গে আপস বা আঁতাত করে, তাহলে সেই দল সমালোচিত হয়। কারণ কোনো বিশেষ নীতির কারণেই একটি দলের সঙ্গে আরেকটি দলের পার্থক্য রচিত হয়। যে দল ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে বিশ্বাসী, তেমন দল যদি ধর্মীয় ভাবাদর্শচালিত কোনো দলের সঙ্গে সখ্য গড়ে, তাহলে সেই দলের নীতিনিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আমাদের দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ (এই মন্তব্যে অনেকেই হয়তো খেঁকিয়ে উঠবেন, এর যুক্তিযুক্ত কারণও হয়তো আছে। কিন্তু তারপরও মোটাদাগে, অন্তত কাগজেকলমে আওয়ামী লীগকে এই দুই আদর্শের সমর্থক দলই বলতে হবে)। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামী একটি ধর্মীয় ভাবাদর্শচালিত দল। দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে কখনও শোনা যায়নি। এ দলটি ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে। নারী নেতৃত্ব ও নারী শিক্ষাকেও তারা ভালো চোখে দেখে না। সেই বিবেচনায় আওয়ামী লীগ ও হেফাজত দুই মেরুর দুই রাজনৈতিক দল। কিন্তু রাজনীতির খেলা এতই বিচিত্র যে, এই দল দুটির মধ্যে গত সাত বছরে বেশ দহরম-মহরম দেখা গেছে। আবার সম্পর্ক তিক্তও হয়েছে।

হেফাজত প্রথম আলোচনায় আসে সাত বছর আগে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যখন প্রগতিশীল ছাত্র-যুবরা রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনে নেমেছিলেন, তখন আহমদ শফীর নেতৃত্বে তাদের বিরুদ্ধে ১৩ দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। এক পর্যায়ে ৫ মে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে মতিঝিলে লক্ষ লক্ষ কর্মীসমাবেশ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সিপিবি অফিস, বায়তুল মোকাররমের দোকানপাট ও কয়েকটি সরকারি অফিসে আগুন জ্বালিয়ে সরকারের আসন্ন পতনের লক্ষ্যে তারা চালিয়েছিল বহ্নুৎসব। সেদিন তাদের মিত্র ছিল সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ধারণা করেছিলেন, হেফাজতি অভ্যুত্থান দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে। কিন্তু সরকারের পতন ঘটেনি। গভীর রাতে পুলিশ দিয়ে হেফাজতকর্মীদের ঢাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তখন নিরাশ হয়েছিলেন বিএনপি ও হেফাজত উভয় নেতৃত্বই। সেই সময় হেফাজত নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারকে মুরতাদ, নাস্তিক ইত্যাদি অভিধাও দিয়েছিল।

Previous Post
Next Post

0 মন্তব্য(গুলি):